Choose Your Language

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

পাঠ্যবইয়ের শেষে গেল জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকার ছবি

একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মগৌরব ও আত্মমর্যাদার অন্যতম চিহ্ন জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত। জাতির সন্তানদের সেই গৌরব এবং পরিচয় অনুধাবনের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমার বাংলা বইয়ের শুরুতে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার ছবি যুক্ত করা হতো। 

তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার কথা জানানো হয়। তবে তেমন কোনো পরিবর্তন না থাকলেও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমার বাংলা বইয়ে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকার ছবি প্রথমে না দিয়ে বইয়ের শেষে যাচ্ছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে শিশুদের আত্মপরিচয়, আত্মগৌরব ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা কতটা গুরুত্ব পাবে।

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা ও বই ছাপানোর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রেস মালিকরাও। তারা বলছেন, এর আগে কখনো জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকার ছবি বইয়ের শেষে দেয়ার নজির নেই। এনসিটিবি কর্তৃক বিতরণ করা বিনামূল্যের বিভিন্ন বছরের পাঠ্যপুস্তকে ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রতি বছরের বইয়ে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার ছবি শুরুতে স্থান পেয়েছে। তবে হঠাৎ করে আগামী শিক্ষাবর্ষের বইয়ে কেন এমন পরিবর্তন হলো বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এনসিটিবির চেয়ারম্যান কিংবা সংশ্লিষ্ট সদস্য।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষা গবেষক রাখাল রাহা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রতিটি বিষয়ের পরিমার্জন এবং পরিবর্তনের জন্য আলাদা কমিটি কাজ করেছে। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে এটা আমার একার সিদ্ধান্ত নয়। আবার এজন্য শিশুদের দেশত্ববোধ কিংবা আত্মপরিচয়ে কোনো প্রভাব পড়বে না।

পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে রাখাল রাহা বলেন, বাচ্চারা শুরুতেই পড়া-লেখার বিষয় বুঝবে না। বরং তারা যদি একটা সুন্দর ছবি দেখতে পায় তাহলে তাদের মনস্তত্বে ইতিবাচক পরিবর্তনেআসতে পারে। আগামী শিক্ষাবর্ষের বইয়ে পরিমার্জনের ক্ষেত্রে বাচ্চাদের মনস্তত্বের দিকে নজর দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Top Ad